প্ল্যান-বি এবং মাহি বি চৌধুরি সমাচার

PIN

চলুন, প্ল্যান বি’র সাথে যুক্ত মাস্টারমাইন্ডদের খুব নিকট রাজনৈতিক ইতিহাসটা একটু দেখে নেই। প্ল্যান বি অর্থাৎ ‘প্রজন্ম বাংলাদেশ’ নামের এই সংগঠনটি নিয়ে মাঠে নেমেছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী ও তার পরিবার। চলতি মাসের শুরু থেকেই অনলাইনে তাদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। আর এ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন মাহী বি চৌধুরী, তার স্ত্রী ও মেয়ে। তার মেয়ে আমেরিকাতে থাকলেও এই আন্দোলনে অংশ নেয়ার জন্য সে ছুটি নিয়ে দেশে এসেছে বলেও জানা যায়। অর্থাৎ গোড়াতেই গলদ। পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে আবার সেই পরিবারতন্ত্রকে পুঁজি করেই মাঠে নামলেন চটকদার বয়ানের বক্তা মাহী বি চৌধুরী।।

মাহী বি চৌধুরী বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আরেক সুবিধাভোগী ব্যক্তিত্বের নাম। পিতা বি চৌধুরী যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য আবদার করেছিলেন, তেমনি বি চৌধুরী রাষ্ট্রপতি হয়ে মুন্সীগঞ্জের আসনটি ছেড়ে দেয়ার পর বাচ্চাদের মত জিদ করে উপ নির্বাচনে দাঁড়ানোর বায়না করেন মাহী বি চৌধুরী।বাবা বি চৌধুরী তখন প্রেসিডেন্ট। তাই খুব সহজেই পার্লামেন্টে চলে আসেন মাহী।

শুধু তাই নয়, বিয়ে করেছিলেন এক সময়ের মডেল আশফাহ হক লোপাকে। পিতা বি চৌধুরী একসময় টেলিভিশনে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রোগ্রাম উপস্থাপনা করতেন। আর স্ত্রীও মডেল হওয়ায় মাহীর মিডিয়ার প্রতি ঝোঁকও ছিল মারাত্মক। প্রেসিডেন্টের ছেলে হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির এক ঘন্টার চাংক কিনে নিয়ে সেখানে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান শুরু করেন মাহী দম্পতি। অবশ্য বি চৌধুরীর রাষ্ট্রপতির চাকুরী চলে যাওয়ার পর মাহীর সেই অন্যায় সুবিধাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মাহী আর তার স্ত্রীকে খুব একটা মিডিয়ায় দেখা যায়নি।

তবে আপনাদের মধ্যে যারা একটু ইতিহাস নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তাদের নিশ্চয়ই মনে থাকবে, কয়েক বছর আগে থার্টিফাস্টে গুলশান বনানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও বারে পুলিশ রেইড দেয়ার সময় সেখান থেকে মাহী বি চৌধুরী ও তার স্ত্রী আশফাহ হক লোপাকেও দেখা গিয়েছিল। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমের কল্যানে সেই ছবি এখনও হয়তো অনেকের সংগ্রহে থাকতে পারে।

এবার আসা যাক, প্ল্যান বি’র আলোচিত সেই ভাষনে। আমি অবাক হয়ে যাই, জনগনের চাহিদা, তারুন্যের চাহিদা নিয়ে কথা বলছে এমন একজন ব্যক্তি, এমন একটি দলের যুগ্ন মহাসচিব যার ৫০ টি আসনে প্রার্থী দেয়ারও সামর্থ্য নেই।যার দলকে লোকে এখন বিকল্প ধারা না বলে “বিকল ধারা” বলা শুরু করেছে। যার ভাষনে জনগনের মুক্তির কোন কথা নেই। অসুস্থ ৭৩ বছরের বিধবা নেত্রীর মুক্তি নিয়েও কোন কথা নেই। আছে টোল, ঘাটের ইজারা, রাস্তাঘাট, ব্রীজের ইজারার হিসেব নিকেষ। যারা শোষনের হাত থেকে জনগনের উদ্ধারের কোন কর্মনীতি না বলে, নিছক চটকদার কথা বলে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চায়, তারা ফেসবুকে লাইক পেতে পারে, কিন্তু জনগনের ভোট ও আকুন্ঠ সমর্থন কখনোই পাবেনা। যেই তরুনদের জন্য এই প্ল্যান বি, সেই তারুন্য এখন অনেকটাই সচেতন। তারা জানে হালুয়া রুটি আর ইজারার ভাগ পাওয়ার জন্যই রাজনীতির সুবিধাবাদী কিছু উচ্ছিষ্ট এখন প্ল্যান বি নিয়ে নেমেছেন। এসব উচ্ছিষ্ট ব্যক্তিদের ইতোপূর্বে জাতি পরিত্যাগ করেছে, আর সময় আসলে এ জাতি প্ল্যান বিকেও ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট হিসেবেই ছুঁড়ে ফেলে দিবে।

ওয়াহিদ তুষার
প্রচার সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক যুব আন্দোলন

এপনি অন্যান্য লিখা গুলোও পড়তে পারেন
রাজনীতি হউক কেবল মাত্র দেশ ও জাতির জন্য

Leave Your Comments